স্বার্থপরতা সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
মানুষ সামাজিক জীব আর সম্পর্কই হলো তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় ভরসা। পরিবার, বন্ধুত্ব কিংবা দাম্পত্য প্রতিটি সম্পর্কই দাঁড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর একে অপরের প্রতি যত্নের উপর। কিন্তু যখন সম্পর্কের ভেতরে স্বার্থপরতা ঢুকে পড়ে, তখন সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে শুরু করে। স্বার্থপরতা আসলে এমন এক অভ্যাস যা শুধু নিজের দিকটা দেখে। যেখানে অন্যের অনুভূতি, প্রয়োজন বা কষ্টের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। আর এ কারণেই স্বার্থপরতা সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু।
একজন মানুষ যদি শুধু নিজের কথা ভাবে, নিজের সুবিধা আর নিজের সুখ নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তবে ধীরে ধীরে সে তার কাছের মানুষদের মন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। শুরুতে হয়তো তা বোঝা যায় না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই স্বার্থপর আচরণ অন্যদের মনে কষ্ট জমিয়ে তোলে। তখন সম্পর্কের মধ্যে বিরক্তি, অবিশ্বাস আর দূরত্ব তৈরি হয়।বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বার্থপর বন্ধু শুধু তখনই পাশে থাকে যখন তার কোনো প্রয়োজন থাকে। প্রয়োজনে কাছাকাছি আসে, আর প্রয়োজন শেষ হলে দূরে সরে যায়। এমন বন্ধুত্ব টিকে না, কারণ এখানে আন্তরিকতা থাকে না। একইভাবে পরিবারেও যদি কেউ শুধু নিজের সুবিধা নিয়ে ভাবে আর অন্যদের অনুভূতি অগ্রাহ্য করে, তবে পরিবার ভেতর থেকেই ভেঙে পড়তে শুরু করে।
দাম্পত্য সম্পর্কেও স্বার্থপরতা একটি বড় সমস্যা। স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি যত্নশীল না হলে, কেবল নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা নিয়ে চললে, সেই সম্পর্কে ভালোবাসার জায়গা আর থাকে না। স্বার্থপর আচরণ একে অপরের প্রতি বিরক্তি আর অভিমান তৈরি করে, যা একসময় সম্পর্ক ভাঙনের দিকে ঠেলে দেয়।সুস্থ সম্পর্কের মূল হলো দেওয়া আর পাওয়া যেখানে দু’জনই একে অপরের অনুভূতি বোঝে, একে অপরকে মূল্য দেয়। স্বার্থপরতা এই ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তাই সম্পর্ক সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে প্রথমেই স্বার্থপরতাকে দূরে রাখা দরকার।