স্বার্থের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
মানুষ সামাজিক জীব আর সমাজে বাঁচতে হলে সম্পর্কের প্রয়োজন হয়। তবে সব সম্পর্ক সমান নয়। কিছু সম্পর্ক গড়ে ওঠে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা আর যত্নের ভিত্তিতে। আবার কিছু সম্পর্কের ভিত কেবল স্বার্থ আর প্রয়োজনকে ঘিরে। প্রথমটা থাকে দীর্ঘস্থায়ী, দ্বিতীয়টা থাকে ক্ষণস্থায়ী। কারণ স্বার্থের সম্পর্ক কখনো আসল সম্পর্ক হতে পারে না।স্বার্থ যেখানে মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে বিশ্বাস আর অনুভূতির কোনো মূল্য থাকে না। আজ কারো থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য তার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া, আবার সুবিধা ফুরিয়ে গেলে সেই সম্পর্ককে দূরে সরিয়ে দেওয়া।এটাই স্বার্থের সম্পর্কের বাস্তব রূপ। শুরুতে হয়তো সেই সম্পর্কটা দৃঢ় মনে হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আসল চেহারা প্রকাশ পায়। মানুষের প্রয়োজন বদলায়, আর প্রয়োজন শেষ হলে সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়।
স্বার্থের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এতে আন্তরিকতা বা মমতা থাকে না। যেটুকু হাসি-মজা, যোগাযোগ বা যত্ন দেখা যায়, তা আসলে প্রয়োজন পূরণের জন্যই করা হয়। একদিন যখন স্বার্থ পূরণ করা সম্ভব হয় না, তখন সেই সম্পর্কের মূল্যও আর থাকে না। এজন্যই স্বার্থের সম্পর্ক টেকে না ভেঙে যায়।সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান আর ত্যাগের ওপর। সেখানে স্বার্থ নেই, আছে বোঝাপড়া আর একে অপরকে পাশে পাওয়ার আশা। এই সম্পর্কগুলো সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে, ঝড়-ঝাপটা পেরিয়েও অটুট থাকে।
তাই জীবনে আমাদের বোঝা জরুরি যে কারো সাথে সম্পর্ক রাখতে হলে সেটা যেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর আন্তরিকতার ভিত্তিতে হয়। স্বার্থের ওপর দাঁড়ানো সম্পর্ক হয়তো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু কষ্ট আর হতাশাই এনে দেয়। সত্যিকার অর্থে সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে দরকার নিঃস্বার্থ মন না হলে তা কেবল ক্ষণস্থায়ী ছায়া হয়ে হারিয়ে যাবে।