ডিজিটাল যুগে বন্ধুত্বের মানে অনেকটা বদলে গেছে
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
বন্ধুত্ব মানেই আগে ছিল আড্ডা, একসাথে খেলা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা চিঠি লিখে অনুভূতি প্রকাশ করা। তখন বন্ধুরা সত্যি সত্যি সময় দিত, একে অপরের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিত। কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে বন্ধুত্বের মানে অনেকটাই বদলে গেছে। এখন বন্ধুত্ব মানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট বা মেসেজের ভেতর সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে, এটা ঠিক। কিন্তু এর সাথে সাথে বন্ধুত্বও হয়ে গেছে অনেকটা ভার্চুয়াল। আগে যেখানে সামনাসামনি দেখা না হলে বন্ধুত্ব অসম্পূর্ণ মনে হতো, এখন একটা ইমোজি পাঠিয়েই আমরা ভাবি আমরা পাশে আছি। অথচ বাস্তবের সেই আন্তরিকতা, স্পর্শ কিংবা মুখোমুখি কথার উষ্ণতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ডিজিটাল বন্ধুত্বের আরেকটা দিক হলো এখন অনেক বন্ধু শুধু অনলাইনে তৈরি হয়, কিন্তু বাস্তবে তাদের দেখা হয় না কখনো। একসাথে পড়াশোনা বা কাজ করার বাইরে শুধুমাত্র মেসেঞ্জার বা কলেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও এর মাধ্যমে নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়, তবুও এর ভেতরে প্রায়শই থাকে অগভীরতা। কারণ বাস্তব জীবনের মতো এ বন্ধুত্বে তেমন দায়িত্ব বা ত্যাগ থাকে না।
তবে সবকিছু খারাপ না। ডিজিটাল যুগে দূরে থেকেও বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে। আগে যেখানে দূরের বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখা কঠিন ছিল, এখন ভিডিও কল বা চ্যাটে সহজেই কথা বলা যায়। তাই এ যুগে বন্ধুত্বের সুবিধাও আছে, অসুবিধাও আছে।ডিজিটাল যুগে বন্ধুত্ব অনেকটাই ভার্চুয়াল হয়ে গেলেও প্রকৃত বন্ধুত্ব এখনও সেই আগের মতোই আন্তরিকতা, ভালোবাসা আর আস্থার উপর দাঁড়িয়ে আছে। শুধু আমাদের সচেতন হতে হবে যেনো এই ডিজিটাল বন্ধুত্ব বাস্তব সম্পর্ককে দুর্বল না করে আরও মজবুত করে তোলে।