রথের মেলা দেখতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
গতকালকে পোস্টে রথযাত্রা সম্পর্কে ছোটবেলার কিছু স্মৃতিচারণ আপনাদের মধ্যে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে তারপর থেকেই শুরু করছি রথযাত্রা দেখার মূহুর্ত।রথযাত্রা নিয়ে প্রচুর স্মৃতি রয়েছে । অন্য কোন পোস্টে শেয়ার করে নেব।সেদিন পোস্ট অফিসের মোড়ে কোনক্রমে ঠেলে রথের সামনে চলে গিয়েছিলাম।এত ভীড় ছিল ছিল প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস শুরু হয়ে গিয়েছিল।প্রথমবার পোস্ট অফিসের মোড়ের রথ সামনে থেকে দেখেছিলাম। দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।যাই হোক রথ দেখে ঠেলতে ঠেলতে আবার কোনক্রমে বেরিয়ে পড়েছিলাম।ওত ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি হচ্ছিল।ওখানে গিয়ে বড় বড় গাড়ি যায়। রাস্তার দুই পাশে দোকান বসে। ওখান থেকে আর কিছু খাওয়া হয়নি, বোনকে বলেছিলাম ওখান থেকে একটা করে আইসক্রিম কিনে নিয়ে টোটো ধরে বাড়ি চলে যাই। বাড়ি যাবার পর মোড়ের মাথায় যে রথযাত্রা হয় সেখানে নিয়ে যাব। বোন তাতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। দুই বোন মিলে একটা করে আইসক্রিম নিয়ে দিদার জন্য একটা আইসক্রিম নিয়ে টোটো ধরে রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে ।
কারণ কারণ ভিড়ের মধ্যে গাড়ি ঘোড়া রাস্তাতে বোনকে নিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছিল না। যাইহোক দুই বোন মিলে গাড়িতেই আইসক্রিম খেতে খেতে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। দিদাকে আইসক্রিমটা দিয়ে আবারো ভেবেছিলাম রথ দেখতে যাব। কিন্তু দিদাকে আইসক্রিম দেওয়ার পর ভীষণ রাগ হয়েছিল।কারণ উনি বসে আছেন পাঁপড় ভাজা খাওয়ার জন্য। রথযাত্রা মানেই জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা খাওয়া । এদিকে আবার রথের দিন আম কাঁঠাল সমস্ত কিছুই খেতে হয়।তাই সেদিন আবার দিদার মান ভাঙাতে চলে গিয়েছিলাম বাড়ির কাছে রথের মেলাতে। সেখান থেকে পাঁপড় ভাজা এনে আগে ওনাকে দিয়ে গিয়েছিলাম। এদিকে শশুর, শাশুড়ি, বর মশাই সকলকেই একটা করে পাঁপড় দিয়ে আবার বোনকে নিয়ে গিয়েছিলাম রথের মেলাতে। ওখানে যাবার পর প্রথমেই টেনে নিয়েছিলাম রথের দড়ি। কারণ পোস্ট অফিসের মোড়ে রথ টানার সুযোগ হয়নি।
ছোটবেলায় দিদা বলতো রথের চাকার নিচে মাথার চুল কেটে দিলে নাকি চুল অনেক বড় হয়। জানি না এ কথা সত্য কিনা। তবে ছোটবেলায় প্রত্যেক বছরই আমরা এই কাজটা করতাম। এরপর পুরো মেলাটা বোনকে ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম ।এই মেলাটাও রাস্তার উপরেই হয়। কিন্তু তার ভেতর দিয়েও ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে। বোনকে প্রথমেই ফুচকা খাইয়ে নিয়েছিলাম। এরপর আর এক মামার মেয়ের জন্য খেলনা কেনার বায়না দিদা প্রথমেই বলেছিল বোনের জন্য খেলনার আনবার জন্য ।তাই বোনের জন্য একটা খেলনা নিয়েছিলাম। এরপর বাড়ির জন্য বাদাম ,জিলাপি সমস্ত কিছু নিয়েছিলাম। এরপর আর ঘোরার কিছু ছিল না ।কারণ রথের মেলাতে এইসব ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।
এরপর আবারও রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। সেদিন এই নিয়ে তিনবার রথ দেখতে যাওয়া হয়েছিল। বাড়ির কাছে মেলা হলে হয়তো এরকমই হয়। ছোটবেলায় এইরকম ভাবেই দুই তিন বার মেলাতে যাওয়া হত।এত বার মেলাতে গিয়ে বোন তো ভীষণ খুশি হয়েছিল। এইরকম বেড়াতে পারলে বোন তো ভীষণ খুশি হয়।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।