" নাথুলা পাস ভ্রমন - জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা"

in Incredible India23 hours ago (edited)
IMG_20260512_105728_114007.jpg
"নাথুলা পাস"

Hello,

Everyone,

চলুন আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের ঘুরে দেখাই নাথুলা পাস। সিকিমে ঘোরার অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সাথে বিভিন্ন পর্বে শেয়ার করছি, যার মধ্যে গত পর্বে শেয়ার করেছিলাম "প্রথমবার অপূর্ব সুন্দর চাঙ্গু লেক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা।"

আর সেখান থেকেই আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল নাথুলা পাস। নাথুলা‌ পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,১৪০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ভারত (সিকিম) ও চীনের (তিব্বত) মধ্যকার একটি ঐতিহাসিক পর্বত গিরিপথ।

IMG_20260512_103750_114051.jpg
"অপূর্ব সৌন্দর্য্য চারিপাশে, তার মাঝে ভারতীয় পতাকা নজর কাড়লো। "

এটি গ্যাংটক থেকে‌ প্রায় ৫৪ কিমি পূর্বে অবস্থিত। এখানে যাওয়ার জন্য সকলকেই গ্যাংটক থেকে আগেই একটি সংরক্ষিত ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি নাথুলা পাস পরিদর্শনের অনুমতি কেবলমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই দেওয়া হয়।

এখানে সারা বছর এই প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে, আর বছরের বেশিরভাগ সময়ই এখানে বরফ দেখা যায়। আমরা যখন এখানে ঘুরতে গিয়েছিলাম, তখন‌ প্রচুর বরফ ছিলো। দেখে যেন মনে হচ্ছিল চারিদিক সাদা চাদরে মোরা আছে‌। এখানে যাওয়ার আগে আমরা খবরের দিকে নজর রাখতাম, কারণ প্রায়শই খবরের শোনা যেতো অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে নাথুলা পাস পৌঁছানোর রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

IMG_20260512_095147_113925.jpg
"চাঙ্গু লেক থেকে নাথুলা পাস রওনা দেওয়ার সময়"

তবে এতো দূর থেকে গিয়ে রাস্তা বন্ধ থাকলে আফসোসের সীমা থাকত না। এইজন্যই আমাদের ড্রাইভার দাদাও বলেছিলেন যে, নাথুলা পাস যাওয়ার জন্য খুব সকালে বেরোতে হবে যাতে আমরা জ্যামে আটকে না পড়ি। বলতে পারেন সেই কারণেই আমরা চাঙ্গু লেকেও খুব বেশি সময় কাটাইনি।

একবার যদি জ্যামে আটকে যাওয়া হয়, তাহলে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা ওই জ্যামেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। সেখান থেকে না ফেরার উপায় থাকবে, আর না সামনে এগোনোর। সৌভাগ্যবশত সেদিন আমরা জ্যামে একদমই পড়িনি।

IMG_20260512_094244.jpg
"রাস্তার পাশে জমে থাকা বরফ"
IMG_20260512_095424.jpg
"অনেকদিন ধরে জমে থাকার কারণে বরফ গুলো কালচে রঙের হয়ে গিয়েছিলো"

চাঙ্গু লেক ছেড়ে আমাদের গাড়ি এগোতে শুরু করলো। তখনই রাস্তার দুপাশে জমা বরফের পরিমাণ যেন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করলো। তখনই বুঝলাম আমরা নাথুলা পাসের কাছাকাছি পৌঁছাতে শুরু করেছি।তবে রাস্তার পাশে জমে থাকা বরফগুলো অনেকটা কালো হয়ে গিয়েছিলো, কারণ এই বরফগুলো অনেকদিন আগে থেকেই পড়তে শুরু করেছে।

IMG_20260512_094507.jpg
"আর্মিরা পায়ে হেঁটেই যাচ্ছিলো"
IMG_20260512_094802.jpg
"এই গেটটা অতিক্রম করার পরেই আমরা পৌঁছালাম পার্কিং এড়িয়ায়। "

গাড়ি কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর দেখতে পেলাম, বেশ কিছু ভারতীয় সৈনিক পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছে নাথুলা পাসের দিকে। বোধহয় শিফটিং ডিউটা আছে, যে কারণে নিজেদের কোয়াটার থেকে ডিউটিতে জয়েন করতে যাচ্ছিলেন। আমরা গাড়ির মধ্যে থেকেই ওনাদেরকে দেখলাম।

তারপর আমাদের গাড়ি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো। তবে অনেকটা আগেই পার্কিংয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিলো। আমরা সেখান থেকে নেমে পায়ে হেঁটে আরও অনেকটা উপরে উঠেছিলাম। গাড়ি থেকে নামার পরেই ভীষণ ঠান্ডা লাগছিলো।

নর্থ সিকিমের জিরো পয়েন্টে গিয়ে যতটা ঠান্ডা লাগছিলো, এখানে যেন তার থেকেও বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিলো। আর সৌভাগ্যবশত এই দিনও এখানে রীতিমতো তুষারপাত শুরু হয়েছিলো আমরা নামার কিছুক্ষনের মধ্যেই।

IMG_20260512_100550.jpg
"তুষারপাত শুরু হওয়ার মুহুর্ত"
IMG_20260512_095534.jpg
"চারিদিক বরফে মোড়া"

ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম আমরা। চারপাশের পরিবেশ এতো বেশি সুন্দর ছিলো যে, সেগুলো ক্যামেরায় বন্দি করা সত্যিই সহজ ছিলো না। প্রচুর মানুষের ভিড় ছিলো সেখানে‌। আমরা গিয়েও নিজেদের মতো করে চারিদিকটা চোখ ভরে দেখলাম, ছবি তুললাম।

সবথেকে মজার বিষয় হলো একেবারে উপরে ওঠার জন্য দুটো রাস্তা আছে, একটা আমাদের মতন পর্যটকদের জন্য এবং অন্যটি সেখানে ডিউটিরত অফিসারদের জন্য।

IMG_20260512_100738.jpg
"এই রাস্তাটা বরফ কাটার মেশিন দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। কারণ এটি আর্মিদের চলাচলের রাস্তা।"

ডিউটিরত অফিসারদের জন্য যে সিঁড়িগুলো রয়েছে, সেখানে বরফ কাটার মেশিন দিয়ে সিঁড়িগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে, তবে পর্যটকদের জন্য সেখানে যে সিঁড়ি রয়েছে, তাতে বরফ ঢেকে রয়েছে। যার ওপর দিয়ে চলাচল করা খুবই রিস্কি। আগের একটা পোস্টে আপনাদের জানিয়েছিলাম যে, এখানে যাওয়ার জন্য আমরা আলাদা করে জুতো ভাড়া করিনি। যেটা জিরো পয়েন্টে যাওয়ার সময় করেছিলাম।

কারণ এখান থেকে আমরা আর ওই দোকানের ফিরে যেতে পারতাম না, যেখান থেকে জুতো ভাড়া করতে হতো। আমাদের গন্তব্য এখান থেকে ঋষি খোলার উদ্দেশ্য ছিলো। তাই সেই জুতোগুলো ফেরত দিতে হলে আমাদেরকে আবার উল্টো দিকে যেতে হতো। একথা ভেবেই আর আলাদা করে জুতো ভাড়া করা হয়নি।

IMG_20260512_100730.jpg
"চারিদিকের অপূর্ব দৃশ্য"
IMG_20260512_103820.jpg
গৌতম বুদ্ধের একটা মূর্তিও চোখে পড়লো সেখানে।

তাই সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠাটা আমাদের জন্য আরও একটু বেশি কঠিন ছিলো। আমরা যে জুতোগুলো পড়েছিলাম সেগুলো একেবারেই বরফে পড়ার উপযুক্ত ছিলো না। কিন্তু তবুও মন মানেনি। উপর পর্যন্ত যেতেই হবে তাই খুব কষ্টে আমরা বরফের রাস্তা দিয়ে ওপরে গিয়েছিলাম।

কতবার যে জুতো স্লিপ করেছে তার ঠিক নেই। তার মধ্যে ছিলো প্রচন্ড ঠান্ডা হাত। পুরো অবশ হয়ে যাচ্ছিলো। দুপাশে ধরার জন্য যে লোহার রড গুলো ছিলো সেগুলো যেন ভালো করে আঁকড়ে ধরতে পারছিলাম না শীতের কারণে। তবে বহু মানুষ এই রকম ভাবেই উঠছিলো। সকলের সহায়তায় ধীরে ধীরে উপরের দিকে আমরাও উঠতে শুরু করলাম।

IMG_20260719_235313.jpg
"সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছিলো"

ঠান্ডার পাশাপাশি অক্সিজেনের লেভেল এতোটা কম ছিলো যে, রীতিমতো শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। তবে আমরা পকেটে করে কর্পূর নিয়েই গিয়েছিলাম। সেটাই খানিকটা বাঁচিয়েছে বলতে পারেন। এইভাবে বরফের মধ্যে দিয়ে ওপরে ওঠার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। তবে একেবারে ওপরে উঠে নিজের চোখে ভারতীয় সীমানার শেষ এবং চীনের সীমানার শুরুর অপূর্ব দৃশ্য গুলো দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না।

IMG_20260512_102533_114118.jpg
"শ্বাসকষ্টের কারণে কর্পূরই ছিল একমাত্র ভরসা"

সত্যি বলতে জীবনে আর কখনো যাওয়া হবে কিনা জানিনা। তাই যখন গিয়েছি যতো কষ্টই হোক, ওই জিনিসগুলো নিজের চোখে দেখার লোভই বোধহয় ওই সময় মনের জোর বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেকখানি। তাই সকলে অনেক কষ্ট করে, অনেকটা সময় নিয়ে হলেও, শেষ পর্যন্ত কিন্তু উপরে উঠেছিলাম।

সেখানে ওঠার পর অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো, আশেপাশে কি কি দেখেছিলাম, সেই সম্পর্কিত সকল তথ্য পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো। আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি। আশাকরি পরবর্তী পর্বের অপেক্ষা করবেন আপনারা সকলেই।

খুব ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 65492.51
ETH 1899.29
USDT 1.00
SBD 0.38