"ফেলে আসা কিছু মুহুর্ত"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ তিতলি ও তাতানের জন্য মনটা বড্ড খারাপ লাগছে। যারা আমার পোস্ট পড়েন, তারা হয়তো এই দুটো নামের সাথে পরিচিত আছেন। তিতলি ও তাতান আমার দিদির ছেলে ও মেয়ে।
মাঝখানে অনেকদিন হয়ে গেছে দিদি বাড়িতে যাওয়া হয় না। তাই ওদের সাথে দেখাও হয় না। তবে একটা সময় ছিলো, যখন মাসের মধ্যে দুই থেকে তিনবার দিদি বাড়িতে যেতেই হতো। কখনো ওদের বায়না মেটানোর জন্য, আবার কখনো প্রয়োজনীয় কাজে।
মাঝখানে আমার দিদির হাজবেন্ডের ব্রেন সার্জারি সময় বহুদিন দিদি বাড়িতেই থেকেছি। কারণ ওই সময় বাচ্চা দুটোকে সামলানোর দায়িত্ব আমারই ছিলো। এছাড়া বাবা যখন অসুস্থ ছিলো, তখন দিদি হসপিটালে বাবাকে সামলাতো, আর আমি বাড়িতে দিদির ছেলে মেয়েকে।
ছোটো থেকেই দিদির পাশাপাশি ওরা আমারও সন্তানের মতোই। আর ওদের ছোটবেলার অনেকটা ওরা আমার সাথে কাটিয়েছে আর যত ওদের সে কথা মনে নেই। কিন্তু আমি যেন দিনগুলো কিছুতেই ভুলতে পারি না।
এটা আসলে খুব স্বাভাবিক। আমার বয়স বাড়ছে তাই জীবনের সুন্দর দিনগুলো পিছুটানে। আর ওরা এখন বড় হতে শুরু করেছে, তাই নতুন নতুন জিনিসের প্রতি ওদের আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। ফলতো সেই সব জিনিসের প্রতি ওদের আগ্রহ অনেক বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
আজ ফোনের গ্যালারি দেখতে দেখতে ওদের ছোটোবেলার ছবিগুলো দেখছিলাম। আর তখনই মনে হল চোখের সামনে কিভাবে ওরা দুজন বড় হয়ে গেলো, যেন বুঝতেই পারলাম না। এখন দুজনেই স্কুলে যায়।
|
|---|
|
|---|
|
|---|
তিতলি তো রীতিমতো নিজের ভাইকে সামলে রাখে।দিদির হলে ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ব অনেক, এই বিষয়টিও সে উপলব্ধি করতে শিখে গেছে। মেয়েরা অবশ্য একটু তাড়াতাড়ি ম্যাচিওর হয়ে যায়। আর আজকালকার দিনে এটা যেন আরও বেশি করে বুঝতে পারি, যখন চোখের সামনে তিতলিকে দেখি।
স্কুল, টিউশনি সমস্ত কিছু নিয়ে এখন দুজনে বেশ ব্যস্ত। যতটুকু সময় ফাঁকা থাকে ততটুকু সময় সুযোগ খোঁজে টিভি কিংবা ফোন দেখার। আজ থেকে আবার তিতলি পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। তাই পড়াশোনার চাপটাও একটু বেশি। আজকাল আর খুব বেশি যাওয়া হয়না দিদির বাড়িতে। মাঝেমধ্যে ফোনেই কথা হয়।
তবে ওদের ছোটবেলাটা আমি ভীষণ মিস করি। মাঝেমধ্যেই মনে হয় আরও কয়েক বছর ওরা ছোটো থাকলেই বোধহয় ভালো হতো। আসলে সময় সময়ের মতো চলতেই থাকে, কোনো কিছুর বিনিময়েই তা স্থির থাকে না। চোখের সামনে যাদের জন্মাতে দেখেছি, তারা ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে এটা যেমন সত্যি। তেমনি এটাও সত্যি যে, তাদের পাশাপাশি আমিও বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছি। তবে এটা যেন মন কিছুতেই মানতে চায় না।
এই কারণেই বোধহয় কথায় আছে, শরীরের বয়স বাড়লেও মনের বয়স বাড়তে চায় না কিছুতেই। এখনো যেন ওদের সাথে সেই ছোট হয়ে থাকতেই মন চায়। তবে ওদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আজ ওদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখতেই হয়।
আমি গেলেই তাদের বায়না শুরু হয়। পড়াশোনাও করতে চায় না। মিমি ওদের কাছে থাকা মানেই মায়ের বকা, বাবার শাসন সবকিছু থেকে ওদের বাঁচাবে, এই বিশ্বাসটা ওদের আছে। সেই কারণেই আরো একটু বেশি আদুরে হয়ে পড়ে দুজনেই।
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন আমার বাবাও দিদির কাছেই থাকে। ঠাকুরমা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবাকে আর একা গ্রামের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয় না। আজ বাবার সাথেই কথা বললাম আর তখনই জানলাম আজ থেকে তিতলির পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
আর আজকাল দিদিরও অফিসে ভীষণ কাজের চাপ বেড়েছে। আসলে ওর ওয়ার্ড শিফট হচ্ছে, যে কারণে পেশেন্ট নিয়ে ও অনেক বেশি সমস্যার মধ্যে আছে। এই কারণে বাড়িতে এসে বড্ড বেশি ক্লান্ত থাকে। আর সারাদিন পর তিতলি তাতান মা কে পেলে আর ছাড়তেও চায় না। তাই ওদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
|
|---|
|
|---|
|
|---|
বাবার সাথে যখন কথা হচ্ছিলো তখন তিতলির টিচার এসেছিলো ওকে পড়াতে। তবে তাতার টিভি দেখছিলো তাই ওর সাথে একটু কথা বললাম। ফোন ধরেই ওর একটাই কথা, -"মিমি, তুমি কি আমাদের ফ্ল্যাটের নিচে দাঁড়িয়ে আছো?"
ওর ধারণা আমি ওদের বাড়িতে গিয়ে নীচে দাঁড়িয়েই ফোন করি। যাতে ওরা চাবি নিয়ে নিচে আসতে পারে। তাতান এখনও অনেকটাই ছোটো। ও এখনও আধো আধো কথা বলে, যেটা শুনতে খুবই ভালো লাগে। ওকে যখনই বললাম, "না আমি আসিনি।" শুনে ওর মনটা একটু খারাপ হলো।
অল্প একটু কথা বলার পর ফোনটা আবার বাবার কাছে দিয়ে দিলো। তিতলির সাথে আজ আর কথা হলো না। তাতানের সাথে কথা বলার পরে মনটা যেন কেমন হঠাৎ খারাপ লাগছিলো। যে কারণেই ফোনের গ্যালারি খুলে ওদের ছোটবেলার ছবিগুলো দেখছিলাম।
সত্যিই সময় বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলো। যাইহোক আপনাদের সাথে ওদের ছোটোবেলার কিছু ছবি শেয়ার করলাম। এই ভাবেই ওরা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, ভালো মানুষ হোক, এইটুকুই আমার বরাবরের প্রার্থনা ছিলো, আজও আছে, আর আগামীতেও এটাই থাকবে। ছবিগুলো দেখে আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন।
ভালো থাকবেন আপনরাও। শুভরাত্রি।