একমুঠো তুষার!
এই গত সপ্তাহের কথা, ডিপ ফ্রিজে একরাশ বরফ জমে গিয়েছিল, সেগুলো যখন পরিষ্কার করছিলাম তখন হাত অবশ হয়ে যাবার জোগাড়!
ভাবুন সেই পর্বতের কথা, যে সর্বক্ষণ তুষারাবৃত হয়ে আছে!
পর্যটক যাচ্ছে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছে, ছবি তুলে একরাশ অভিজ্ঞতা আর স্মৃতি নিয়ে নিজের নিজের গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট সময়ের পর।
আজকের ছবিগুলো ভারতে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যের কুমায়ুন অঞ্চলের পিথোরাগড় জেলায় একটি পার্বত্যাঞ্চল নৈনিতালে অবস্থিত মুন্সিয়ারির।
পরিচিতি মোটামুটি তুলে ধরলাম কারণ বাকি বিষয়গুলো আগামী লেখায় হয়তো উল্লেখ করবো, তাই এখন লেখার মূল স্রোতে ফেরা যাক।
ফ্রিজের বরফ এর বড় বড় চাই তুলতে গিয়ে তার ওজনের দিকটাও বেশ ভাবলো আমায়!
ক্ষণিকের ওজন, সাথে শীতলতা উভয় বিষয়টি আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল সেই তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গের কথা, যে বা বলা ভালো যে সকল পর্বত যুগ যুগ ধরে নিজেদের শৃঙ্গে ধারণ করে রয়েছে এই তুষার!
একমুঠো তুষার ক্ষণিকের জন্য ধারণে হিমসিম খাওয়া মানব সমাজের আমিও যে একটি অঙ্গ সেটি তো অস্বীকারের কোনো জায়গা নেই, কাজেই এবার আসবো সেই বার্তায় যেটি আজকের লেখার বিষয়।
এই মুহুর্তে আমি একটি প্রতিযোগিতা ঘোষণা করেছি কমিউনিটিতে, যার বিষয় হলো সমালোচনা!
এখানে বিষয়টি লেখায় উল্লেখ করতে হচ্ছে কারণ, দায়ভার এড়িয়ে গিয়ে সমালোচনায় মুখর মানুষের সংখ্যা অগণিত; তবে এই তুষারের ভার সহ, তার শীতলতা বছরের পর বছর ধরে বয়ে চলার ক্ষমতা কতজনের আছে, সে বিষয়টি হয়তো খুঁজে দেখতে হলে, মনে হবে, খড়ের গাদায় সূঁচ খুজছি!
তুষারাবৃত পর্বতের উপর যখন সূর্যালোক পড়ে, সেই দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে পর্যটক কিন্তু পর্বত সহ সেই তুষার কিন্তু সূর্যের তাপের কাছে হার মানে না!
সাথে পর্বত কিন্তু কখনও আবদার করে না সূর্যের কাছে যে, তার শৃঙ্গ থেকে এই তুষারদের বিতাড়িত করা হোক!
অর্থাৎ সামান্য অসুবিধায় যেখানে মানুষ পথ বদলে নেয়, কিংবা সুবিধা যেদিকে সেদিকে ঝুঁকে পড়ে, এর কোনোটাই কিন্তু পর্বতের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে না!
অর্থাৎ নৈতিকতার সাথে আপোষ করে না এই পর্বত তথা পার্বত্য অঞ্চলের সাথে বসবাস করা প্রাণীকুল।
তাই, তাদের পাহাড়ি খাড়া পথকে বেছে নিতে হয়েছে, পোশাক, খাদ্য এমনকি দৈনন্দিন অনেক সুবিধা এদের কাছে সহজলভ্য না থাকা সত্যেও তারা কিন্তু কখনও সমতলে নেমে আসার মানসিকতা রাখেন না।
তাহলে এই একমুঠো তুষার থেকে যেটা শিখলাম সেটা হলো, জীবনের পথে চলতে গিয়ে যেটি নিজে সাদরে গ্রহন করতে পারবো, সেটা নিয়েই বোধহয় কথা অথবা প্রতিযোগিতার ভাষায় সমালোচনা করা উচিৎ!
বলতে হবে বলে বলা, করতে হবে বলে করা হলো সেই পর্যটকদের মত, যারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থান, কাল, পাত্র উপভোগ করলেও সেই স্থানীয় মানুষদের মত কখনোই হতে পরে না, তুষারাবৃত পর্বত হওয়া তো দূর অস্ত!
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাইতেও মূল্যবান শিক্ষা দিয়ে যায় প্রকৃতি, পূর্বেও বহুবার উল্লেখিত!
মানুষ যায় আবহাওয়া পরিবর্তন করতে, আর আমি? আমি প্রতিটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের মধ্যে খুঁজে পাই নির্ভেজাল শিক্ষা!