প্রিয়জন, নাকি শুধুই প্রয়োজন?
সম্পর্কের পরিভাষা খুজতে গিয়ে উপরিউক্ত দুটি বিশেষ্য খুঁজে পেয়েছি!
তবে, বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে এই প্রিয়জন টিকে আছে কেবলমাত্র প্রয়োজন, কে কতখানি মেটাতে সক্ষম সেই অনুপাতে!
প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন! অথচ, মুল প্রয়োজনের স্রোত হিসেবে, কিন্তু জিতে যায় অর্থ! অর্থাৎ ওই টাকার কথা বলছি আর কি!
ঘর থেকে সমাজ, অফিস থেকে বন্ধু বান্ধব সবটাই টিকে রয়েছে, পকেটের ওজনের উপর!
বাড়িতে সম্মান পাওয়া থেকে প্রিয়জনের তালিকায় সেই শ্রেষ্ঠ, যার উপার্জন বেশি!
আমি বিষয়টি উল্লেখ করছি সহমতের প্রত্যাশা ছাড়াই, কারণ আমি জানি, সব জ্ঞান পাপী বিষয়টি সামাজিক ভাবে অস্বীকার করলেও মনে মনে সমর্থন করবেন।
সকলের মেনে নেওয়ার মতো বুকের পাটা থেকে না!
সে যাইহোক, বাড়ির ছেলে থেকে বৌমা, মেয়ে থেকে জামাই সবার ক্ষেত্রেই প্রিয়জনের তালিকা তৈরি হয়, ওই, কে, কতখানি অর্থ দিয়ে প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম তার উপর।
বন্ধুদের মধ্যে কে কতখানি খরচ করে সপ্তাহে খাওয়াতে সক্ষম, তার উপর বিষয়টি নির্ভর করে।
অথবা প্রয়োজন পড়লে অবলীলায় টাকা ধার দিতে পারবে;
তবে সেটা ফেরত চাইতে পারবে না!
যদি এমন বন্ধু মেলে তাহলে সে আচ্ছা আচ্ছা প্রিয়জনদের পিছনে ফেলে দিতে সক্ষম।
অফিসে ছুটির আবেদন মঞ্জুর থেকে, বকেয়া বোনাস, আবার দেরি করে একাধিক দিন অফিসে আসা, সাত তাড়াতাড়ি অফিস পরিত্যাগ করার মতো বিষয়গুলো চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে পারলেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রিয়জনদের তালিকাভুক্ত হতে পারেন অনায়াসে।
অর্থাৎ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী যদি সামনের পক্ষ সাড়া দেয়, আচার ব্যবহার করে, তাহলে প্রিয়জনের অভাব থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই!
অথচ একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখবেন, এই প্রাচুর্যের আড়ালে মুখ বন্ধ করে আর এক্ শ্রেণীর প্রিয় মানুষের অবস্থান রয়েছে, যাদের কেউ বিশেষ মনে রাখে না!
কে এনারা? কেনো এমনটা হয় এদের সাথে?
এরা সেই বিলীন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যারা অন্যের হাসির আড়ালের কষ্ট বোঝে, বিপদে পড়লে অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে না পারলেও, মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সর্বদাই এদের অবস্থান সুস্পস্ট।
ভিড়ের মাঝে মানিব্যাগ থেকে মানি বের করতে না পারলেও রাত জেগে সেবা দিতে এদের জুড়ি মেলা ভার!
তবুও এরা সমাদরে পিছিয়ে, আর খোশামোদ করতে এরা শেখেনি, তাই নিজের কাজটুকু সেরে প্রশংসিত সেই মানিব্যাগ ধারী মানুষগুলোর পাশ থেকে নত মস্তকে বেরিয়ে আসে কাউকে কিছু জানান না দিয়ে।
তবে, এত সবের পরেও এরা দ্বিতীয়বার ডাকলেও নির্দ্বিধায় সেই অকৃতজ্ঞ মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়াতে কুণ্ঠাবোধ করে না!
কেনো বলুন তো? উত্তর হলো মূল্যবোধের পার্থক্য।
এরা হলো, সেই প্রিপেইড সিম কার্ড, যাদের মেয়াদ আঠাশ দিন!
যতখুশি প্রয়োজনে (এই আঠাশ দিন) এদের ব্যবহার করে নিন এই সময়ে, তারপর আবার প্রয়োজন পড়লে রিচার্জ করবেন;
নইলে অন্যের ওয়াইফাই দিয়ে কাজ চালিয়ে নেবেন।
সঙ্গে তো পোস্টপেইড বন্ধু রয়েইছে, যারা রিচার্জের টাকা যোগান দেবে মিথ্যে প্রশংসা পেলেই!
এই মানুষগুলোর সাথে এমনটি হয়, কারণ এরা সেটা বারংবার হতে দেন!
সেটি কোনো মূল্যেই পরিশোধ যোগ্য নয়, সেদিন হয়তো, এদের সাথে অন্যায় করতে সাহস পাবে না, এই সুবিধাবাদী মানুষগুলো।
আর ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি সময়ের হাত ধরে একবার কোনো মানুষকে চিনে ফেললে, তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।
কারণ, ওই যে কথায় আছে, স্বভাব যায়না মোলে!
অর্থাৎ মানুষ যেমন হোক না কেনো আমৃত্যু তার স্বভাব অপরিবর্তিত থাকে।
তাই, নিজেকে যদি কখনও মনে হয়, প্রিয়জনের আড়ালে আপনি শুধুই প্রয়োজন, তাহলে খানিক মানসিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাই ভালো!
কারণ, ওই যে, কথায় আছে, সুখের চাইতে স্বস্তি ভালো! বাকিটা অবশ্যই আপনার নিজের সিদ্ধান্ত।
লেনদেনে আমি কাঁচা কিন্তু কি জানেন, নিজের চোখের দিকে চাইতে কুণ্ঠাবোধ হয়না!
কেনো বলুন তো?