জীবন যাত্রা!
সকলের জীবনেই কিছু না কিছু গল্প থাকে! যাকে গল্প আখ্যায়িত করছি সেটাই আসলে জীবনের সংঘর্ষ!
কেউ মেনে নেয়, কেউ মানিয়ে নেয়, আবার কেউ প্রতিবাদ করে, নিজের স্বত্তা বজায় রাখতে!
লড়াইটা কারোর কোনো অংশে কম নয়, কারণ যে মেনে নেয়, কিংবা মানিয়ে নেয় সেটা যে সব সময় নিজের ইচ্ছানুসারে এমনটি কিন্তু নয়;
আবার ধরুন, যারা নিজের অস্তিত্বের লড়াই লড়ে, তারা যে মেনে কিংবা মানিয়ে নেয় নি কোনোদিন এমনটিও নয়!
জীবন বড় অদ্ভুত! এখানে আমরা যদিও একলা আসা যাওয়া করি কিন্তু এর মাঝখানে বহু মানুষের সাথে পরিচয় হয়, আবার কিছু মানুষ হয়ে ওঠে পথ চলার সঙ্গী, কেউ সারাজীবনের আবার কেউ ক্ষণিকের।
তবে, উভয়ক্ষেত্রেই যেটি নজরে পড়ে সেটি হলো, ওই মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদী মানসিকতার উপস্থিতি।
এই মুহূর্তে লেখার অনুপ্রেরণা কিছু ভারতীয় মেয়ে এবং মহিলা যাদের জীবনের কাহিনী শুনতে শুনতে মনে মনে ভাবলাম, এরাই আসলে জীবনকে সঠিক সম্মান দিতে সক্ষম হয়েছে।
কেনো এমনটি বলছি? কারণ, এদের মধ্যে যেমন কেউ ডাক্তার, কেউ সেনা বাহিনীর সৈনিক, আবার কেউ শিক্ষিকা, কেউ সিনেমায় স্টান্ট করে, নায়িকার ডামি হিসেবে!
অপরদিকে, একটি মেয়ে 2007 সালে জন্মেছে, নাম অদৃজা সিনহা!
মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই কাজ শুরু এই বাঙালি মেয়েটির! রিয়েলিটি শো, অভিনয়;
তবে লেখাপড়ার সাথে সমঝোতা করে নয়! ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখিত মেয়েটি উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছিল 94.6%, এছাড়াও পারদর্শী অভিনেত্রী, নৃত্য শিল্পীর পাশপাশি, লেখাপড়ায় কতখানি ভালো, সেটার উল্লেখ করেছি তার প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে, এছাড়াও তার আগ্রহ স্পোর্টেসেও সমানভাবে!
যেখানে সকলের জন্য একই সময়ে নির্ধারিত! এই মেয়েটি প্রমাণ করেছে, আগ্রহ থাকলে এই একটি দিনের মধ্যে নিজের কত ইচ্ছে পূরণ সম্ভব!
এটাকেই তো পারিবারিক শিক্ষা বলে! মেয়েটির দাদা নেভি অফিসার!
ভাবুন, যদি মেয়েটির মাতা পিতার কথা! কতখানি সহযোগিতা আর উৎসাহ থাকলে, একসাথে এতকিছু করা সম্ভব।
এরপর, আজকে উল্লেখ করবো একজন শিক্ষিকার কথা, যার সেভাবে হয়তো সোস্যাল আইডেন্টিটি নেই, তাতে কি যায় আসে?
সকলেই তো আর প্রচারের আলো পাবার জন্য কাজ করে না, তারা কাজ করে এটা ভেবে সমাজটা তাদের পরিবারের অঙ্গ!
কেনো এই শিক্ষিকার কথা উল্লেখ করছি? কারণ গলি থেকে অনেকেই শহরের পথে, তবে ইনি উল্টোপথে পা বাড়িয়েছিলেন!
তিনি একটি এমন গ্রাম বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে সেই সময় ছিল না কোনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা!
তাপমাত্রা এতটাই উচ্চ ছিল যে চামড়ায় রীতিমতো ফোস্কা পড়ে যেত, কিন্তু তবুও তার গ্রামের শিশুদের শিক্ষিত করবার জেদ, তাকে ভিন্ন করে সকলের থেকে!
আজকের অনুষ্ঠানে এসে শিক্ষিকা জানালেন, বিনা বেতনে তিনি পড়াতেন, তার অমন কষ্ট দেখে গ্রামের মানুষ সেদে এগিয়ে এসে যার যেমন সামর্থ, সেই অনুযায়ী পরের দিকে তাকে বেতন দেয়!
এরাও তো মানুষ! আদ্রীজা ছাড়া, বাকি সকলেই বিবাহিত এবং সংসার করছে;
আমি তাই শুধু এই মহিলাদের নয়, বরং এদের দিকে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করছি।
জীবনযাত্রা সবসময় সুমধুর হবে এমনটা নয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই যাত্রায় কাঁটার অধিক অধিক থাকে, তবে যারা সবটাকে পদদলিত করে এগিয়ে যাবার সাহস দেখায়, তারাই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়!
এবার কমিউনিটিতে যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে ডিগ্রী এবং স্কিল নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেছি, তবে কি জানেন, সবকিছুই মূল্যহীন যদি উভয়ের প্রয়োগ নিজের তথা সামাজিক উন্নয়নে কাজে না আসে!
একান্তই ব্যাক্তিগত উপলব্ধি তথা অভিমত, তবে নিজেদের অন্ততপক্ষে দিনের মধ্যে একবার আয়নার সামনে দাড়িয়ে প্রশ্ন করা উচিত, একটিমাত্র জীবনযাত্রায় নিজস্ব প্রাপ্তি কি হয়েছে এখনও পর্যন্ত!
আত্মতৃপ্তি শব্দটি শুধুই শব্দ নয়, এটি নিজের তথা সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়েই আসে বলে আমি মনে করি।
নিজেকে নিজে সম্মান করাটা আবশ্যক!