শুভ্রতা বনাম সততা!
লেখার শুরুটা আজকে একটা প্রশ্ন দিয়ে করতে চাই! শুভ্রতা মানেই কি সততা?
আজকে দুপুর বারোটায় হঠাৎ নজর কাড়লো নীলাকাশ আর তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হওয়ায় দোদুল্যমান সুপুরী গাছ;
সঙ্গে কোথাও একসাথে জমাট বাধা আবার কোথাও টুকরো টুকরো তুলোর মত ভাষা দুধ সাদা মেঘ!
আর প্রকৃতির মাঝে একসাথে দেখা এই তিনটি চিত্র, আমার মনে উপরিউক্ত প্রশ্নের উদ্রেক করেছে!
ধরুন, নীল আকাশ সৃষ্টিকর্তা, মেঘ হলো জীবন, আর দোদুল্যমান সুপুরি গাছটি মানব সমাজ!
এবার যদি লক্ষ্য করেন তাহলে ঋতুর হাত ধরে মেঘের রং পরিবর্তিত হয়, অর্থাৎ ঠিক যেমন আমাদের জীবন, আর ওই গাছটি যেমন টিকে থাকার লড়াইতে সামিল, মানব সমাজ কিংবা সমস্ত প্রাণীকুল তার ব্যতিক্রমী নয়!
এবার চলুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজি কিংবা বলা বাহুল্য নিজের অভিমত ব্যক্ত করি নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে।
আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে শুভ্রতা মানেই কিন্তু সততা নয়! কেনো বলছি এমনটা?
জীবনের সবটা শুভ্রতায় মোড়া নয়, সেখানে সমান ভাবে অবস্থান করে সাদার পাশাপশি কালো!
নিশ্চই খেয়াল করেছেন, সাদা মেঘ যেমন আছে তেমনি, মেঘের রং পরিবর্তিত হয়ে কালো হতে!
এখন শুধু এইটুকু বিশ্লেষণ করেই থেমে গেলে প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণ হয়ে যায় না!
কেনো? কারণ মানব জীবনে সাদা পোশাক, সাদা ত্বকের আড়ালে, কালো মানসিকতা নজির বিহীন নয়!
অর্থাৎ শুভ্রতা মানেই, তার অন্তরালে সততা বিরাজ করছে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই!
আর সব কালো যে কালিমালিপ্ত সেটাও সম্পূর্ণ সত্য নয়! কালো মেঘ বৃষ্টি বয়ে এনে ধরণীকে শান্ত করে, তৃষ্ণার্ত প্রাণী কুলের প্রাণের স্রোত অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে!
এবার উভয় মেঘের অবস্থান কোথায়? উত্তর হলো আকাশে!
অর্থাৎ সবটাই অলক্ষ্যে বসে সরেজমিনে কে লক্ষ্য রাখছেন? সেই সৃষ্টিকর্তা!
এবার এই সাদা আর কালোর মাঝে যারা সমস্ত পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত লড়াইতে সামিল অর্থাৎ সেই দোদুল্যমান সুপুরি গাছটি, আর সেই সকল মানুষ যারা প্রতিদিন যাঁতাকলে পিষে দিনগুজরান করছেন, কিন্তু তবুও থেকে থাকার লড়াইতে অটুট!
এটাই বোধহয় সততার প্রতীক! যারা আপোষ করতে নয়, বরঞ্চ প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে বাঁচতে ভালবাসেন।
জীবনের রং পরিবর্তিত হয় মেঘের মত, তেমনি এই লড়াইতে সামিল মানুষগুলো বিশ্বাস করে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তিটিতে
মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালেই সূর্য্য হাসে!
তবে, শুভ্রতার আড়ালে যারা সততাকে ফাঁকি দেবার প্রয়াস করে, তাদের যে আকাশ ধরে ফেলে সেটাও বর্তমানে প্রমাণিত!
সাদা পোশাক পরলেই নিজেকে সৎ প্রমাণ করা যায় না! ঠিক যেমনি বৈভবের আড়ালে সুপ্ত আত্মস্বার্থ যেমন একদিন বাইরে বেরিয়েই আসে!
নকল হইতে সাবধান! এই বার্তা দিয়ে যায় কালো মেঘের হাত ধরে নেমে আসা বৃষ্টি!
সমস্ত ধুলো, সমস্ত কালিমা ধুয়ে শুভ্রতার আড়ালের কদর্য্যতা তুলে ধরে, আর ঠিক তখন অনেকেই অবাক হয়ে দেখে কি ভয়ঙ্কর দ্বিচারিতা লুকোনো ছিল শুভ্রতার আড়ালে!
সততা দুরস্ত, সেখানে শুধুই হিসেব, নেই নূন্যতম কৃতজ্ঞতা বোধ!
তাই আজকের নীলাকাশ, সাদা মেঘের উপস্থিতি এবং নির্মল বাতাসে মাথা উঁচু করে দোদুল্যমান গাছটি কিছু ভাবনা দিয়ে গিয়েছিল, আর সেই ভাবনার উত্তর খুঁজতে গিয়ে আজকে জীবনের শিক্ষার একটি মূল্যবান পাঠ তুলে ধরবার প্রয়াস করলাম!
সময়ের সাথে মানব সমাজের অনেকেই টিকে থাকার লড়াইতে হেরে যায়! সমাজে শুভ্রতার হাত ধরে আসা নকল সততায় বিশ্বাস অনেকাংশে সেক্ষেত্রে দায়ী!
অবশ্য সম্পূর্ণটাই একান্ত নিজস্ব ভাবনা;
সেখানে সহমতের প্রত্যাশা একেবারেই নেই!
তবে, জানবার ইচ্ছে রইলো, আপনারা কি মনে করেন শুভ্রতা মানেই কি সততা?
Curated by: @kouba01
Much appreciated your support @steemcurator05 and @kouba01😊