আমার কবিতার খাতা থেকে:নিশীথে।।০৭ জুন ২০২৬
হ্যালো বন্ধুরা,
আজকে আমি একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করছি।আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে।
আর সে ভাবে বাড়ি ফেরা হলো না—
যেভাবে একদিন সন্ধ্যা নামলেই
রাস্তাগুলো আপন হয়ে যেত,
চায়ের দোকানের ধোঁয়া
নামের মতো চিনে নিত মুখ,
আর দরজার ওপারে
কেউ না কেউ রেখে দিত অপেক্ষার শব্দ।
এখন বাড়ি আছে,
ঠিকানাও আছে,
চাবির গোছায় ঝুলে আছে
ফিরে যাওয়ার সব আনুষ্ঠানিক অধিকার।
তবু দরজা খুললেই বোঝা যায়—
কিছু ঘর শুধু ইট-কাঠে থাকে না,
থাকে মানুষের গলায়,
চেনা হাঁকডাকে,
বালিশের পাশে রাখা অকারণ অভিমানে।
যে উঠোনে একদিন
বিকেলের আলো নরম হয়ে পড়ত,
সেখানে এখন সময়ের ধুলো।
যে জানালা দিয়ে আকাশকে ছোট মনে হতো,
আজ সেই জানালাই বলে—
মানুষ বড় হতে হতে
নিজের ফেরার পথটাই
কখন যে হারিয়ে ফেলে।
আর সে ভাবে বাড়ি ফেরা হলো না—
কারণ মানুষ ফিরলেও
তার আগের মানুষটি ফেরে না।
হাতে বাজারের ব্যাগ থাকে,
মোবাইলে খবর থাকে,
মুখে ক্লান্তির ভদ্র নীরবতা থাকে;
শুধু সেই সহজ আনন্দ থাকে না,
যা একদিন দরজার কড়া নাড়লেই
ভিতর থেকে ছুটে আসত।
আমরা সবাই একটু একটু করে
নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাই—
কেউ চাকরির নামে,
কেউ স্বপ্নের নামে,
কেউ অভিমান বাঁচাতে,
কেউ বেঁচে থাকার হিসাব মেলাতে।
তারপর বহু বছর পরে
যখন ফিরে আসি,
দেখি বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে,
কিন্তু সময় বসে নেই।
দেয়ালে পুরনো ক্যালেন্ডার নেই,
রান্নাঘরে সেই গন্ধ নেই,
আর যে কণ্ঠস্বর বলত—
“এত দেরি হলো কেন?”
সে কণ্ঠস্বর এখন
স্মৃতির ভেতর থেকে খুব আস্তে ডাকে।
তাই বাড়ি ফেরা হয়,
কিন্তু সে ভাবে নয়।
ফেরা হয় শরীরে,
ফেরা হয় দরজায়,
ফেরা হয় বিছানার ক্লান্ত পাশে—
কিন্তু যে বাড়ি একদিন
আমাদের সমস্ত ভাঙা দিনকে
এক মুঠো ভাতের উষ্ণতায় জুড়ে দিত,
সে বাড়ি আর পুরোটা ফিরে পাওয়া যায় না।
শেষ পর্যন্ত বুঝি—
বাড়ি কোনো জায়গা নয়,
বাড়ি হলো কিছু মানুষ,
কিছু গন্ধ,
কিছু অসমাপ্ত ডাক,
কিছু সন্ধ্যা
যেখানে আমরা আজও পৌঁছাতে চাই,
কিন্তু আর সে ভাবে
বাড়ি ফেরা হয় না।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

Beauty of Creativity. Beauty in your mind.
Take it out and let it go.
Creativity and Hard working. Discord
