শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ১১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর একাদশ পর্ব শেয়ার করবো। এরপর অর্ণব বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করতেই বললো- ব্রিটিশ আমলের সার্ভিস টানেল। অনেক বছর ধরে বন্ধ ছিল, কিন্তু কেউ এগুলো আবার ব্যবহার শুরু করে। কারা? রুদ্রজিৎ ধীরে বললেন-যারা মানুষকে অদৃশ্য করতে চায়। অর্ণব বিশ্বাস করতে পারছিল না, এ যেন সিনেমার গল্প। কিন্তু তার হাতে থাকা প্রমাণগুলো অন্য কথা বলছে।রুদ্রজিৎ আবার বললেন- মেঘলা এই চক্রের খোঁজ পেয়েছিল। কীভাবে? সে প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করত। ফোন সিগন্যাল, ডিজিটাল পরিচয় আর কল রাউটিং নিয়ে।
অর্ণব মনে করার চেষ্টা করল। হ্যাঁ...মেঘলা সত্যিই গবেষণার কথা বলত। কিন্তু বিষয়টি কখনও বিস্তারিত বলেনি।রুদ্রজিৎ এবার একটি ল্যাপটপ চালু করলেন।স্ক্রিনে পুরোনো কিছু ফাইল খুলে গেল, তার মধ্যে একটি অডিও। এরপর তিনি প্লে করলেন।হেডফোন ছাড়াই স্পষ্ট শোনা গেল মেঘলার কণ্ঠ।যদি আমার কিছু হয়, তাহলে বুঝবে ওরা আমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আমি অর্ণবকে কিছুই বলিনি, কারণ ওকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। অর্ণবের চোখে জল চলে এল। এতদিন পর সে আবার মেঘলার স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনছে, কোনো বিকৃতি নেই, কোনো রহস্যময় প্রতিধ্বনি নেই। শুধু এক পরিচিত মানুষের উদ্বেগ। হঠাৎ রুদ্রজিৎ ভিডিওর আরেকটি অংশ চালালেন।
এই ভিডিওটি আগে অর্ণব কখনও দেখেনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে- মেঘলা দ্রুত দৌড়ে প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনে আসছে।পেছনে তিনজন লোক, সবার মুখ ঢাকা। মেঘলা মোবাইল বের করে কাউকে ফোন করল। স্ক্রিনে মাত্র একটি নাম দেখা গেল- অর্ণব। ভিডিও থেমে গেল। এরপর রুদ্রজিৎ বললেন- এই ফোনটাই ছিল সেই শেষ ফোনকল। অর্ণব ফিসফিস করে বলল- কিন্তু আমি তো সেই কল পাইনি। রুদ্রজিৎ তার দিকে তাকালেন। কারণ তুমি তখন অন্য জায়গায় ছিলে না। মানে? তুমি সেদিন স্টেশনেই ছিলে। অর্ণব মাথা নাড়ল- না, এটা হতে পারে না। রুদ্রজিৎ ধীরে ফাইলের আরেকটি পৃষ্ঠা খুললেন, সেখানে হাসপাতালের রিপোর্ট, রোগীর নাম- অর্ণব সেন। ভর্তি হওয়ার সময়- মেঘলার তথাকথিত মৃত্যুর মাত্র চল্লিশ মিনিট পরে। মাথায় গুরুতর আঘাত।
অর্ণব আর কিছু বলতে পারল না। তার স্মৃতির ভাঙা টুকরোগুলো যেন ধীরে ধীরে জোড়া লাগতে শুরু করেছে। হঠাৎ তার চোখের সামনে ঝাপসা কিছু দৃশ্য ভেসে উঠল- বৃষ্টি, দৌড়। মেঘলার আতঙ্কিত মুখ, কারও চিৎকার- ফোনটা নিয়ে নাও! তারপর প্রচণ্ড আঘাত, সব অন্ধকার। ঠিক তখনই নিচতলা থেকে দরজা ভাঙার শব্দ এল। একবার, দু'বার।তারপর ভারী বুটের শব্দ। রুদ্রজিৎ মুহূর্তেই জানালার পাশে গিয়ে বাইরে তাকালেন। তার মুখের ভাব বদলে গেল। ওরা এসে গেছে। অর্ণব আতঙ্কিত হয়ে বলল- ওরা কারা? রুদ্রজিৎ দ্রুত টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি ছোট্ট মেমোরি কার্ড বের করলেন। অর্ণবের হাতে দিয়ে বললেন- এটার ভেতরে সব প্রমাণ আছে। পাঁচ বছরের তদন্ত, যদি আমি বাঁচতে না পারি, তুমি এটা প্রকাশ করবে। নিচতলায় আবার গুলির শব্দ।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


