নীরব সাক্ষী
আলো সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে—শহর, বন্দর কিংবা নগর। একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবু এত আলোতেও অন্ধকারের মৃত্যু হয় না। বরং আবছা আলোর আড়ালেই মানুষ তার প্রকৃত জীবন লুকিয়ে রাখে।
জ্যোৎস্না-ফোটা রজনীতে কেউ স্বপ্ন বোনে, কেউ কষ্ট লুকানোর কৌশল রপ্ত করে। কেউ নতুন প্রেমে বিভোর, কেউ কান্না জমিয়ে চোখের নিচে ক্লান্তির দাগ এঁকে ফেলে। কেউ অসহনীয় যন্ত্রণায় ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, কেউ না-পাওয়া নিশ্চিত জেনেও মরীচিকার পিছু ছুটে চলে।
কেউ ভবিষ্যতের নামে জটিল সমীকরণ কষে, কেউ মিথ্যে অজুহাতে নিজের ভাঙা মনকে অহেতুক সান্ত্বনা দিয়ে থাকে। আবার কেউ শুধুই নীরব দর্শক—সময় তাকে বয়ে নিয়ে যায়, অথচ সে কোথাও পৌঁছায় না।
কারও কাছে জ্যোৎস্নাও বিলাসিতা। জীবন নামের হিসাব খাতায় লাভ-লোকসান লিখতে লিখতে একসময় নিজের শখ, স্বপ্ন আর ইচ্ছেগুলোও কেটে দেয়। বসন্ত আসে, বসন্ত ফুরিয়েও যায়; অথচ তার জীবনে ঋতু বদলায় না।
লেনদেনের এই যুগে, যেখানে বাণিজ্যই হয়ে উঠেছে সম্পর্কের ভাষা, সেখানে ভালোবাসা ক্রমশ ফিকে হয়ে যায়। বিশ্বাস নিঃশব্দে হাত ফসকে পড়ে, আর অশরীরী আত্মাগুলো বিজয় উল্লাসে জয়ধ্বনি তোলে।
তবুও সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্যটি হচ্ছে—মানুষ একদিনে আলো হারিয়ে অন্ধকারে ডুবে যায় না; বরং চারপাশে এত আলো থাকার পরেও ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের সম্ভাবনার আলোটুকুও নিভে ফেলে।
তারপর সে হাসে, কথা বলে কিংবা বেঁচেও থাকে—কিন্তু তার ভেতরে নীরবে মৃত্যু ঘটে অসংখ্য স্বপ্নের, অসংখ্য বিশ্বাসের, অসংখ্য অপূর্ণ ভালোবাসার। সেই মৃত্যুর কোনো শোকসভা হয় না, কোনো শোকবার্তা লেখা হয় না; শুধু জ্যোৎস্না নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে.....!!