এ গল্প স্থানীয় তরুণদের।
চতুর্দিকে ধানের জমি, মাঝখানে পুকুর। আসলে কর্ম করার ইচ্ছা থাকলে নানা রকম বুদ্ধি এমনিতেই উদয় হয়। গত কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়েই মূলত এমন দৃশ্য দেখেছি।
অজুহাত আসলে চাইলেই দেওয়া যায়, তবে যদি প্রকৃত অর্থে কাজ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অন্য কারো কাছে সহজে হাত পাততে হয় না।
বেশ লম্বা সময় ধরে চাকরির পিছনে ঘুরছিল স্থানীয় কয়েকজন তরুণ, তবে যখন দেখল এই বাজারে আর যাই হোক চাকরির পিছনে দৌড়ে জুতার তলা ক্ষয় করা নিতান্তই বোকামির লক্ষণ, তাই একটা সময় পরে গিয়ে সেই দৌড়ঝাঁপ তারা ছেড়ে দিয়েছিল।
যে টাকা চাকরির পিছনে খরচ করতে চেয়েছিল, সেই টাকা দিয়ে তারা প্রথমে জমি লিজ নেওয়া শুরু করেছিল, তারপরে নিজেরাই কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছিল। সেখান থেকে যখন বাড়তি পয়সার মুখ দেখেছিল, অতঃপর তারা তাদের লিজ নেওয়া জমির পাশের পুকুরটিকেও লিজের অন্তর্ভুক্ত করে।
ভাগ্যের চাকা ঘোরে, তবে প্রচুর কঠোর পরিশ্রম ও আঠার মতো লেগে থাকতে হয়। যার কোনো ঘাটতিই তারা অপূর্ণ রাখেনি, তাই হয়তো ভাগ্যের ফল সুমিষ্ট হয়েছিল।
একদিক থেকে যেমন ধান আসে, অন্য দিক থেকে মাছ। নিজেদের কাজ নিজেরাই করে, পাশাপাশি কিছু লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই তো সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা যেমন ফিরেছে, তেমনটা নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করার মানসিকতাও তৈরি হয়েছে।
ভাগ্যিস সেই সময় চাকরির পিছনে দৌড়-প্রতিযোগিতা ছেড়েছিল, নইলে হয়তো বর্তমানে এমন কিছু করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে যেত।
মানুষের সফলতার কথা শুনতে ভালোই লাগে, তবে তার থেকেও বেশি ভালো লাগে, যখন শুনি স্থানীয় তরুণরা নিজেদের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে,সেই গল্প শুনতে।