নিঃশব্দ ক্ষয়

in আমার বাংলা ব্লগyesterday

32560.jpg

ভাষা ফুরিয়েছে; বাকরুদ্ধ হয়েছি। অতি সূক্ষ্ম কৌশলে যন্ত্রণার অনলে নিক্ষিপ্ত হয়েছি। ক্লান্তি শরীর ছাপিয়ে মনে বাসা বেঁধেছে, হতাশা এখন নিত্যসঙ্গী। তবুও অভিযোগ রাখি নি।

কতটা সংকটময় সময় যে অতিক্রম করছি, তা হয়তো বলাবাহুল্য। অক্ষিকোটরের কালচে দাগগুলো নির্ঘুম রাতের নয়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অদৃশ্য যুদ্ধের সাক্ষ্য। চারপাশ নয়, যেন নিজের ভেতরটাই ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।

ইদানীং উচ্চ রক্তচাপ বেশ ভোগাচ্ছে। ডান পাশের ঘাড়ের রগ থেকে শুরু করে হাতের বুড়ো আঙুলের পাশের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। ডান পাশটা প্রায়ই ঝিমঝিম করে।

বহুদিন ধরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছি, কিন্তু বাস্তবতা প্রতিবারই সেই সিদ্ধান্তকে পরাজিত করে। জীবনের অবিরাম অস্থিরতার ভিড়ে নিজের শরীরটাই সবচেয়ে অবহেলিত হয়ে আছে।

জেনে-শুনে কখনো কারও ক্ষতি চাইনি। শুধু সত্যকে সত্য বলার সাহসটুকু হারাইনি। অথচ সেই সাহসের মূল্য দিতে হয়েছে নীরবে—এক বুক যন্ত্রণা জমিয়ে, কোনো শব্দ উচ্চারণ না করেই।

তারিখ বদলায়, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টায়, সময় এগিয়ে যায়; কিন্তু জীবনের হিসাবের খাতা আর মেলে না। বিষ পান করিনি—এ কথা সত্য। কিন্তু প্রতিদিন এমন কিছু বাস্তবতা গিলছি, যা বিষের চেয়েও ধীর, নিষ্ঠুর এবং অধিক প্রাণঘাতী।

দোষ আসলে কারও নয়; দোষ আমারই। সবার ভালো চাইতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়েছি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বারবার নিজের কাঁধেই বিপদের বোঝা তুলে নিয়েছি।

আজ যে সংকট আমাকে গ্রাস করছে, তার অনেকটাই আমার নিজের হাতে নির্মিত।
সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো—কাউকে হারাতে গিয়ে নিজেকে হারাইনি বরং সবাইকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেকেই নিঃশেষ করেছি।

চাইলে কর্মটুকু বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম, চাইলে নিজের জীবনটাকেও কিছুটা সহজ করতে পারতাম। হয়তো তাতে কিছু সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব তৈরি হতো, তবে নিজের অস্তিত্ব অক্ষত থাকত।

আজ বুঝি, মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়াকে মহানুভবতা বলে না; তাকে বলে আত্মবিনাশ। আর সেই আত্মবিনাশের পথেই হেঁটেছি—এমন নিঃশব্দে যে, একদিন হয়তো হারিয়েও যাব, অথচ নিজের হারিয়ে যাওয়ার শব্দটুকুও কেউ শুনতে পাবে না।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64475.84
ETH 1855.86
USDT 1.00
SBD 0.38