"বৃষ্টির দিনে ভর্তির বিলে ভ্রমণ"
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে বৃষ্টির দিনে ভর্তির বিলে ভ্রমণ পর্বটি উপস্থাপন করছি। আশা করি, এই ভ্রমণ পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
ভর্তির বিল সম্পর্কে আগে-পরে আমি আগেও পোস্ট করেছি। ভর্তির বিল শহর থেকে অনেকটা বাইরে যেখানে গেলে প্রকৃতির ছোঁয়া মেলে। এই ব্যস্ততম শহরে মানুষগুলো একটু প্রশান্তি পাওয়ার জন্য চলে যায় এই ভর্তির বিলে। কারণ এখানেই মিলে প্রকৃতির ছোঁয়া। আমরা যতই প্রকৃতিকে বাইরে রেখে উন্নত জীবন যাপন করি না কেন। একদিন না একদিন এই প্রকৃতির মাঝে আমাদের বিলীন হতে হবে। প্রত্যেক ঋতুতেই ভর্তির বিল নতুন নতুন রূপ নেয়। আর বর্ষাকালে ভর্তির বিল যেন আলাদা এক রূপে পরিণত হয়। বর্ষাকালে ভর্তির বিলে দেখা মেলে ডিঙ্গি নৌকা। আর এই ডিঙ্গি নৌকা এত সুন্দর আলপনা করে সাজানো থাকে যে,আপনাকে ডিঙ্গি নৌকাতে উঠতে নিজের ভিতর থেকে আকর্ষণ সৃষ্টি করবে।বর্ষাকালে ভর্তির বিল জলে পরিণত হয় তখন আর কৃষকেরা ফসল পলাতে পারে না। তখন কৃষকেরা শহর থেকে ঘুরতে আসা মানুষগুলোকে নৌকাতে চড়িয়ে জীবন জীবিকা চালিয়ে থাকে।তারা প্রায় দুই থেকে তিন মাস এইভাবে জীবন জীবিকা চালিয়ে থাকে।
যাইহোক, বৃষ্টির সময়টিতে আমরাও ভর্তির বিলে ঘুরতে যাই। সেদিনও চলে গেছিলাম ভর্তির বিলে। সেদিন সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল আমাদের যাওয়াটা একটু সমস্যা হয়ে গেছিল। কারণ আমরা সবাই বাইকে যাব। বৃষ্টি যেন কিছুতেই সেদিন সাত দিচ্ছিল না আমাদের।বৃষ্টি একটু কম হলে আমরা বেরিয়ে পড়লাম ভর্তির বিলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আকাশটা ছিল মেঘলা সূর্যের দেখা মিলছিল না চারিদিকে অন্ধকার অন্ধকার ভাবছিল মনে হচ্ছিল এই বুঝি সন্ধ্যা নেমে এসেছে। অনেকদিন পরে গিয়েছিলাম ভর্তির বিলে। ভর্তির বিলে যাওয়ার রাস্তাটা আগে ছিল মাটির এবার যে দেখলাম সেখানে ঢালাই রাস্তা হয়ে গেছে। এখন আর বৃষ্টি হলে ভর্তির বিলে চলতে প্রবলেম হবে না। রাস্তার দু'পাশে পাট ক্ষেত বৃষ্টির আগে কৃষকরা পাট বুনে থাকে। আর বৃষ্টি যখন হয় বিলও জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায় তখন কৃষকেরা পাট কেটে যাগ দিয়ে থাকে। আর এ বছর পাটের চাষটা বেশি হয়েছে কারণ আমাদের কলকাতাতে অনেক বন্ধ থাকা শিল্প-কলকারখানা চালু হয়েছে তাই পাঠের চাহিদা ও প্রচুর রয়েছে। এবছর কৃষকেরা পাঠের দামটা খুব ভালোই পাবে।
যাইহোক, গাড়ি রাস্তার পাশে রেখে আমরা একটি সুন্দর আলপনা করা নৌকাতে উঠলাম। আমরা সংখ্যায় ছিলাম ৬ জন আর এই ৬ জনের নৌকা ভাড়া ছিল মাত্র ৩৫০টাকা। মাঠের কিছু কিছু জায়গায় পাঠ রয়েছে আবার কিছু জায়গায় পাটগুলো কেটে যাগ দেওয়া হয়েছে। আমরা নৌকোয় বসতে মাঝি নৌকো বাইতে শুরু করল ।আমরা আস্তে আস্তে ভর্তির বিল নৌকায় চোরে ঘুরতে শুরু করলাম। আগেই বলেছিলাম আকাশটা মেঘলা ছিল কিন্তু আস্তে আস্তে সেই মেঘে ঢাকা আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করল। মেঘের আড়াল থেকে সূর্যিমামা উঁকি মারতে শুরু করল। বৃষ্টি ছাড়িয়ে গেলে আকাশ যখন পরিষ্কার হয়ে যায় তখন আকাশের সৌন্দর্যটা এক নতুন রূপ ধারণ করে। আমি সেই সৌন্দর্যের কিছু ছবি নিচে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি আশা করি, ছবিগুলো দেখে আপনাদের ভালো লাগবে।
নৌকা চলছে আর আমরা সূর্যাস্ত হওয়ার এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি এ যেন এক আলাদা শান্তি। সূর্যাস্ত হয়ে গেল আমরা আবার কুলে ফেরার জন্য রওনা করলাম। কুলে এসে নৌকা থেকে নেমে আমরা একটি ধাঁবায় গেলাম খাবার খেতে। ভর্তির বিলে এখন অনেকগুলো খাবারের দোকান হয়েছে। আর হবেই না কেন প্রতিনিয়ত প্রকৃতির মাঝে বিলীন হওয়ার জন্য মানুষ এখানে ভিড় করছে। আর যেখানে মানুষের ভিড় জমে সেখানে খাবারের দোকান হবে এটা স্বাভাবিক। কারণ মানুষ না খেয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না আর এই প্রকৃতির মাঝে শুধু এক কাপ চা খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম। যাইহোক, আমরা চিকেন পকোড়া, নুডুলস, আর শেষে চা অর্ডার করলাম।
ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল: oppo A79 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:4.05mm
তারিখ:২৭/০৬/২০২৬
সময়:০৬.১৯ মিনিট।
স্থান: ভর্তির বিল, কলকাতা।
খাবারগুলো খেতে খেতে চারিপাশটা অন্ধকার নেমে এলো। গ্রামের এক কোন থেকে শিয়ালের ডাক ভেসে আছে হাওয়াতে। এই অঞ্চলে অনেক শিয়াল বসবাস করে আর এই শিয়ালের ডাক অন্ধকারের রাতে শুনলে গা ছমছম করে ওঠে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা একটু হাঁটাহাঁটি করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। বৃষ্টির দিনে ভর্তির বিলে ভ্রমন করে অনেক আনন্দিত হলাম। এখন বর্ষাকাল যদি সময় পান আপনারও একবার যে ঘুরে আসুন প্রকৃতির মাঝে এই ভর্তির বিলে।
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟