শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ৭ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর সপ্তম পর্ব শেয়ার করবো। তো এরপরে- মেয়েটি কি তার সহকর্মী রুদ্রের কথাই বলতে চেয়েছিল? নাকি অন্য কোনো রুদ্র?সন্ধ্যার দিকে অফিস থেকে খবর এল- রুদ্র আজ সারাদিন অফিসেই আসেনি। এমনকি কাউকে কিছু জানায়ওনি। এরপর অর্ণব আরও অস্বস্তিতে পড়ল, ঠিক তখনই তার দরজার নিচ দিয়ে কেউ একটি খাম ঢুকিয়ে দিয়ে চলে গেল। দরজা খুলে বাইরে তাকাতেই দেখল, সিঁড়িতে কেউ নেই।খামের ভেতরে একটি পেনড্রাইভ আর একটি কাগজ ছিল।
তাতে লেখা ছিল- ভিডিওটি একা দেখো, কেউ যেন পাশে না থাকে। অর্ণব ল্যাপটপে পেনড্রাইভ লাগাল এবং ভিডিও চালু হতেই ঝাপসা সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেল। তাতে তারিখ ছিল- পাঁচ বছর আগের সেই রাত। লোকেশন- প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিন। ভিডিওতে দেখা গেল, মেঘলা একা দাঁড়িয়ে আছে। বারবার মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছে এবং তার মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট। হঠাৎ ফ্রেমে আরেকজন মানুষ ঢুকল, তাতে লোকটির মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, শুধু কালো রেইনকোট।দু'জনের মধ্যে তর্ক শুরু হলো। তারপর ভিডিও হঠাৎ কেঁপে উঠল এবং স্ক্রিনে দাগ পড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর আবার ছবি পরিষ্কার হলো। কিন্তু এবার যা দেখা গেল, তাতে অর্ণবের বুকের রক্ত যেন হিম হয়ে গেল।
কালো রেইনকোট পরা লোকটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে অর্ণব নিজেই। সে অবিশ্বাসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল এবং বলতে লাগলো- না...এটা অসম্ভব। সেদিন তো সে স্টেশনে আসেইনি! তাহলে ভিডিওতে থাকা মানুষটি কে? নাকি... তার নিজেরই এমন কোনো স্মৃতি আছে, যা সে ভুলে গেছে? ঠিক তখনই ভিডিওর শেষ ফ্রেমে কালো রেইনকোট পরা মানুষটি ধীরে ধীরে ক্যামেরার দিকে মুখ তুলল, মুখ এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার ডান হাতের কবজিতে থাকা একটি ঘড়ি স্পষ্ট দেখা গেল।অর্ণবের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসল। কারণ ঠিক একই ঘড়ি...এই মুহূর্তে তার নিজের হাতেই বাঁধা। ভিডিওটি শেষ হওয়ার পরও অর্ণব অনেকক্ষণ ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে রইল, ঘর নিস্তব্ধ।
শুধু সিপিইউর ফ্যানের একটানা শব্দ। কিন্তু তার মাথার ভেতর যেন শত শত প্রশ্ন একসঙ্গে ঘুরছে। ভিডিওতে দেখা মানুষটি যদি সত্যিই সে হয়, তাহলে পাঁচ বছর ধরে সে নিজেকেই মিথ্যা বলে এসেছে। আর যদি সে না-ও হয়, তাহলে এমন নিখুঁতভাবে তার মতো দেখতে মানুষ কে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- সেই ঘড়ি। ডান হাতে বাঁধা স্টিলের পুরোনো ঘড়িটা সে কলেজ জীবনের শেষ দিকে বাবার কাছ থেকে উপহার পেয়েছিল।খুব কম মানুষই জানত, এই ঘড়ির পেছনে ছোট্ট করে খোদাই করা আছে একটি তারিখ- ১২ আগস্ট। এরপর সে ধীরে ধীরে ঘড়িটি খুলে হাতে নিল। হঠাৎ খেয়াল করল, এত বছরেও সে কখনও ঘড়িটির ভেতরের ঢাকনাটি খোলার চেষ্টা করেনি।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


