" নিউ বাবা মন্দির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
|
|---|
Hello,
Everyone,
"নিউ বাবা মন্দির" হলো সিকিমের আরও একটা বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। ভারতীয় সেনা জওয়ান হরভজন সিং এর স্মরণে নির্মিত একটি বিখ্যাত ও পবিত্র তীর্থস্থান। যা গ্যাংটক থেকে নাথুলা পাস যাওয়ার পথে ছাঙ্গু লেকের (Tsomgo Lake) কাছে অবস্থিত। "ওল্ড বাবা মন্দির" এই মন্দিরের থেকে আরও বেশ কিছুটা দূরে অবস্থিত।
|
|---|
১৯৬৮ সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করা কালীন শহীদ হওয়া সেনা জওয়ান হরভজন সিং এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। মূল মন্দিরটি যদিও এটি নয়। তবে মানুষের যাতায়াত সহজ করার জন্য মূল বা পুরনো মন্দিরের নিচে এই 'নিউ বাবা মন্দির' তৈরি করা হয়। এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় যাওয়ার জন্য বিশেষ পারমিট বা অনুমতির প্রয়োজন হয়।
|
|---|
|
|---|
সকল পর্যটকেরা সাধারণত গ্যাংটক থেকে গাড়ি ভাড়া করে ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা পাসের সাথে সাথে এক দিনেই এটি ঘুরে দেখেন। আমরাও ঠিক এমনটাই করেছিলাম। তবে অনেকেই শুধু এই নিউ বাবা মন্দির ভিজিট করে ফিরে আসেন। তবে আমরা নিউ বাবা মন্দির দেখার পরেও ওল্ড বাবা মন্দির পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
নাথুলা পাস থেকে আমাদের গাড়ি যখন নিউ বাবা মন্দির এর উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলো, তখন গাড়ির মধ্যে বসেই আমরা টুকটাক কিছু খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। কারণ লাঞ্চ করার জন্য আমরা আর কোথাও সময় নষ্ট করিনি। যেহেতু একই দিনে আবার নিউ বাবা মন্দির দেখে, আমরা ঋষি খোলায় যাবো ঠিক ছিলো, তাই একটু তাড়াহুড়োই ছিলো আমাদের।
|
|---|
নাথুলা পাস থেকে খুব বেশি সময় লাগেনি নিউ বাবা মন্দিরে পৌঁছাতে। তবে আমাদের ড্রাইভার দাদা আমাদের গাড়ি মন্দিরের পিছন দিক থেকে নিয়ে গিয়ে পার্কিং এ দাঁড় করিয়েছিলো। যাতে বেরোনোর সময় খুব একটা সময় না লাগে।
|
|---|
তাই আমরা মন্দিরের পেছন দিক থেকেই উঠেছিলাম। সেখান থেকে ওঠার সময় দূর থেকে আমরা একটা ঝরনা এবং শিব ঠাকুরের একটা বড় মূর্তি দেখলাম। এই মূর্তিটাই রিলসেও বহুবার দেখেছি আমরা।
যাইহোক সেখানে বহু মানুষের ভিড় ছিলো। আর এই দিন বেশ ভালো রোদ্দুরও ছিলো। আমরা প্রথমে গিয়েই মন্দির দর্শন করার জন্য গেলাম। সকলে একসাথেই মন্দিরের ভিতরে ঢুকলাম। যেখানে হরভজন সিং এর একটা সুন্দর মূর্তি করা আছে।
|
|---|
তার পাশে দু তিনটে রুম আছে। তার মধ্যে একটা অফিস রুম, একটা রেস্ট রুম, আর আরেকটা ওনার নিজের থাকার ঘর হিসেবে তৈরি করা আছে। যেখানে ওনার ব্যবহৃত বেশ কিছু জিনিস সংরক্ষিত রয়েছে।
|
|---|
|
|---|
মন্দিরে বহু মানুষের ভিড় থাকলেও এক অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধতা ছিলো। আর সকলেই নিজের মতো করে সম্পূর্ণ মন্দিরটি ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরটি খুবই সুন্দরভাবে সাজানো ছিলো।
আর যেটি সবথেকে ভালো ছিলো, সেটা হচ্ছে মন্দিরের ভিতরে একটা খুব সুন্দর সুগন্ধ ছিলো। সেটা শুধুমাত্র ধূপকাঠির, নাকি অন্য কোনো স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছিলো, সেটা বুঝতে পারিনি। তবে সুগন্ধটা যেন এখনও নাকে লেগে আছে।
বেশ কিছুটা সময় আমরা সেখানে কাটালাম এবং সেখান থেকে আমরা প্রসাদ নিলাম। আপনারা চাইলে সেখানে বসে পুজো দেখতে পারেন, বাড়িতেও প্রসাদ নিয়ে আসতে পারেন। আমরা সেখান থেকে অল্প পরিমাণ প্রসাদ নিয়েছিলাম। তবে বাড়ির জন্য যদি আপনি আনতে চান, তাহলে আপনি সেখানে আপনার সাধ্য অনুযায়ী কিছু দান করে প্রসাদ আনতে পারেন।
|
|---|
|
|---|
এমনকি সেখানে আলাদা বোতলে করে জলও বিক্রি হয়। যেটাকে আশীর্বাদী জল হিসেবে মানা হয়। অনেকেই নিজেদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেখান থেকে সেই জল নিয়ে আসেন। মন্দিরে প্রবেশ করার জন্য বাইরে জুতো রেখে, খালি পায়েই আমাদেরকে প্রবেশ করতে হয়েছিলো।
এরপর আমরা বাইরে বেরিয়ে এসে আশেপাশের বাকি জায়গাটাও ঘুরে দেখলাম। সেখানে ছোট্ট একটা ক্যান্টিনও রয়েছে। চাইলে আপনারা সেখান থেকে খাবারও খেতে পারেন।
তাছাড়া বাইরে একটা জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সেখানকার কর্মরত সকল সেনারা প্রার্থনা সারেন। এছাড়া মন্দিরের সর্বত্রই হরভজন সিং এর সম্পর্কে বেশ কিছু কথাও লেখা আছে। যেগুলো সেখানে দাঁড়িয়ে আমরাও পড়লাম। আর সেই সাথে স্মৃতি হিসেবে কয়েকটি ছবিও তুললাম।
|
|---|
|
|---|
সবথেকে যেটা বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সেটা হচ্ছে আমাদের ভারতীয় পতাকা, যেটা হাওয়ার কারণে খুব সুন্দর ভাবে উড়ছিলো। আপনারা সকলেই হয়তো এটা মানবেন, নিজের দেশের পতাকার প্রতি আমাদের সকলেরই মনে এক অন্যরকম অনুভূতি থাকে। যেটা পাহাড়ে গিয়েও বহুবার আমি নিজেও অনুভব করেছি।
হরভজন সিং এর নামে কেন এই রকম মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পিছনে একটা কাহিনী রয়েছে। হয়তো সেটা আপনারা অনেকেই জানেন। আমি আপনাদের সাথে আগামী পর্বে সেই কাহিনীটি শেয়ার করবো, যেই পর্বে আপনাদের সাথে আমি ওল্ড বাবা মন্দির ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো।
নিউ বাবা মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতা এবং সেখানে তোলা কিছু ছবি, আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করলাম। আপনাদের সকলের কেমন লাগলো, সেটা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
Se nota que viviste cada momento y no solo pasaste por los lugares para sacar fotos. Eso se valora.
@sampabiswas, viajar es la unica forma de entender que el mundo es mas grande de lo que uno cree desde su casa.